ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসা

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ ঔষধি গাছের উপকারিতা সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।  কোন রোগের কি ঔষধ খুজতে হবে না আর আপনাকে। হারবাল চিকিৎসা আর ভেষজ উদ্ভিদ সম্পর্কে জানলে আপনি এমনিতেই আয়ুর্বেদিক ডাক্তারি জ্ঞান পাবেন এলোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথি নয়।

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ  প্রাচীন কাল হতে এসব ঔষধি গাছ মানুষের বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদি এসব গাছের ঔষধি গুনাগুন; উপকারীতা ও ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের ধারনা থাকে তাহলে সামন্য সমস্য ডাক্তারের সরনাপন্ন হতে হয় না।

আমরা বিভিন্ন সময়ে সামান্য অসুস্থ হলে ডাক্তারের নিকট যাই। কিন্তু এই সামন্য সমস্য আমাদের আশপাশের গাছ; পাতা; লতা হতেও সমাধান পেতে পারি। এছাড়াও বিভিন্ন বড় ধরনের অসুস্থতায় এবং শরীরিককে সুস্থ্য রাখতে আমাদের আশপাশে অবস্থিত,

বিভিন্ন ঔষধি গাছ যেমন- তেলাকুচা, তেতুল, সজিনা, পেঁয়াজ, তেজপাতা, অর্জুন, জলপাই, কালমেঘ, হরিতকী, নিম, রসুন, বহেরা, চালতা, আকন্দ, বাসক পাতা, ঘৃতকুমারী, বেল, আমলকি, থানকুনি পাতা, হলুদ, পুদিনা পাতা,এর মাধ্যমে সমাধান পেতে পারি।

তেলাকুচা

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ তেলাকুচায় প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন আছে। যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জ্বর দূর করে কুষ্ঠ রোগের ক্ষেত্রে তেলাকুচার বহুল ব্যবহার রয়েছে। হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, জন্ডিস রোগের ক্ষেত্রে তেলাকুচার ব্যবহার রয়েছে। রক্ত আমাশায় বা সাদা আমাশয়ে এর পাতার রস চিনিসহ সেবনে উপকার হয়।

তেতুল

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে কাভি রোগ প্রতিরোধ করে রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, মেদ ভুড়ি কমায় অ্যাসিডিটি কমায় শরীর জ্বালাপোড়া কমায়।

সজিনা

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ শজনি ক্ষুধা বাড়ায়, বল বীর্য বৃদ্ধি করে, পেটের অসুখে উপকারী, বাত শারে গলগশু হলে সজনে খেতে হয়। শজনে চোখের জন্য ভালো পেটে গ্যাস উৎপন্নে বাধা দেয়। ব্যথা, কাশি, নাক মুখ থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে। শরীরের অনাকাঙ্ক্ষিত দাগ দূর করে।

পেঁয়াজ

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ কীটপতঙ্গের কামড়ের ব্যথা দূর করে পেঁয়াজ। উপকারী গলা ব্যথা দূর করে পুড়া স্থানে ব্যথা ও জ্বালা কমায় চুল পড়া প্রতিরোধ করে। এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে হেঁচকি বন্ধ করে, বমি বমিভাব দূর করে।

তেজপাতা

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ শরীরের লাবণ্য বৃদ্ধি করে, চর্মরোগ দূর করে, প্রসাব হলুদ রং দূর করে শরীরের দুর্গন্ধ দূর করে অতিরিক্ত ঘাম বের হওয়া কমায়। মুখের অরুচি দূর করে। চোখের পিচুনি দমনে কার্যকরী।

অর্জুন

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ বুক ধড়ফড় করা দূর করে। হৃৎ পিন্ডের পেশি শক্তিশালী দূর করে। এবং কার্য ক্ষমতা বাড়ায় লিভার সিরোসিসের টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মুখ, জিব্বা, ও মাড়ির প্রদাহের চিকিৎসা ব্যবহার হয় ।ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা, ব্যথা, প্রদর কমায় অর্জুনের ছালের রস যৌন উদ্দীপনা বাড়ায়।

জলপাই

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ কর্ম শক্তি বাড়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে, আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধ করে, মুটিয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে?

কালমেঘ

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ জ্বর সর্দি কাশি উপশম করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, লিভার সুস্থ করে, রস রক্ত পরিষ্কারক, পাকস্থলী ও যকৃতের শক্তিবর্ধক পাতা সিদ্ধ করে ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দিলে পাচড়া ছেড়ে যায়। টাইফয়েডের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার হয়। ফ্লু ও সাইনাসাইটিসের জন্য উপকারী।

হরিতকি

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ হরিতকীর গুড়ো জলে মিশিয়ে খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে রক্তচাপ ও খিচুনি কমায় খিচুনি রোধক এবং স্নায়ুবিক শক্তিবর্ধক কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে হরিতকী। দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে দাঁতে ব্যথা হলে হরিতকী গুড়ো লাগান, ব্যথা দূর হবে।

নিম

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ কফ জনিত বুকের ব্যথা দূর করে, কৃমিনাশক উকুন নাশক পোকামাকড়ের কামড়ে ব্যথা, উপশম করে। দাঁত মজবুত করে, জন্ডিসের ভালো ওষুধ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।

নিম পাতা গরম পানিতে করে গোসল করলে চর্মরোগ দূর করে।

রসুন

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে, রক্তের ক্লোরেস্টল হ্রাস করে। হার্ট সুস্থ রাখে কাঁচা রসুন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পরিপাক সমস্যা দূর করে, সর্দি-কাশিতে রসুন উপকারী।

ডিসেনন্ট্রি নির্মূলের ক্ষেত্রে রসুন বেশ কার্যকরী ক্যান্সার প্রতিরোধ করে রসুন।

বহেড়া

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ শ্বেতী রোগ সারাতে বহেড়া যথেষ্ট উপকারী। রক্ত আমাশয় উপশম করে। অকালে চুল পাকা রোধে বহেড়া উপকারী। মধু মিশিয়ে চেটে খেলে অফের সমস্যা কমে যায়। টাক মাথায় বহেরার বিচি বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। শরীরে ফুলে যাওয়া স্থানে সাল বেটে  লাগালে ফুলা কমে।

চালতা

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ হার্ট ও লিভারে টনিক হিসেবে কাজ করে। অর্শ রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, এবং ডায়রিয়া নিরাময়ে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ক্ষমতাও রয়েছে।

ঠান্ডা ও কাশির জন্য উপকারী, বদহজম জনিত সমস্যার জন্য চালতা উপকারিতা।

আকন্দ

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ অম্বল/এসিডিটি দূর করে, পেট কামড়ানো বা পেটের জ্বালা পোড়া, উপশম করে। শরিলে কোথাও ফুলে  গেলে আকন্দ পাতা বেধে রাখলে ভালো হয়। পাতা চুরুট বানিয়ে ধূমপান করলে, শ্বাসকষ্ট ভালো হয়। নিউমোনিয়ায় উপকারী হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

বাসক পাতা

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ জ্বর সর্দি কাশিতে উপকার পাওয়া যায়। উকুন দূর করে, কফ জনিত শ্বাসকষ্ট উপশম করে, প্রসাবে জালাপোড়া দুর করে, জন্ডিস রোগে উপকার পাওয়া যায়। চলকানি দূর করে, দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে। বাসক পাতার রস গায়ের রং ফর্সা করে।

ঘৃত কুমারী

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ ত্বকের সুরক্ষায় বিশেষ, ভাবে কার্যকর। চুলের জন্য ভালো একটি উপকারী উপাদান, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। রস রক্তের সাথে মিশে রক্তের অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। হজমে মহৌষধ হিসেবে কাজ করে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

বেল

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ বেলের শরবত শরীর ও মনের তৃপ্তি জুগাই। হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, বেল ডায়রিয়া আমাশয় রোগের ওষুধ, পাকস্হলীতে উপকারী পরিবেশ তৈরি করে। বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলস, অ্যানাল ফিস্টুলা, হেমোরয়েড প্রতিরোধে কার্যকর।

আমলক্ষী

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ চুল পড়া রোধ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, এসিডিটি দূর করে, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

থানকুনি পাতা

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ জ্বর কমায়, পেটের পীড়া ভালো করে, গ্যাস্ট্রিক দূর করে, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, খুসখুসে কাশির উপশম করে, আমাশয় ভালো করে, লিভারের সমস্যা দূর করে, রক্ত দূষণ প্রতিরোধ কার্যকরী।

হলুদ

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ পেটের বায়ু ও পুরনো ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণের কার্যকর, কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। লিভারের সমস্যা উপশম করে। তোতলামি সমস্যা দূর করে।

হজমে দুর্বলতা দূর করে, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে, কফ, সর্দি, ঠান্ডা লাগা থেকে মুক্তি দেয়। পুরনো খুসখুসে জ্বর, কোষ্ঠবদ্ধতা, পুরনো কাশি কার্যকরী।

পুদিনা পাতা

ঔষধি গাছ গুনাগুন চিকিৎসাঃ শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যায় তুলসী আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করে। পেটের ব্যথা কমায়, ক্যান্সার প্রতিরোধক মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করে। অজ্ঞান ব্যক্তির মুখের সামনে ধরলে জ্ঞান ফিরে আসে।

হেঁচকি সমস্যা দূর করে, সর্দি কাশির উপশম করে।

হাজারো বছর আগে থেকেই নানা অসুখ-বিসুখে ঔষধি গাছ ব্যবহৃত হয়ে আসছে, বর্তমান যুগেও এসব গাছের ব্যবহার আছে?

 

Comments

You must be logged in to post a comment.