জীবন এবং সময় দুটোই হাতছাড়া

এখন বিশ্বে করোনা মহামারির কারনে ভয়ংকর অস্থিরতা বিরাজমান। মানুষের জীবন নিয়ে সামান্যতম অবহেলার সুযোগ নেই। যে সমস্ত দেশে নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের বসবাস বেশি সে রাষ্ট্র খুব চিপায় পরে গেছে। 

করোনা একটি সংক্রমক রোগ।এক দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়ায় এটা। এবং নানা মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। এই ধরুন বাতাসের মাধ্যমে,লোহা বা ষ্টীলের উপর হাতের স্পর্শে।কোন কমিউনিটি আক্রান্ত হলে সেই স্থানের সংস্পর্শে গেলে এবং নানাবিধ মাধ্যমে বডিতে প্রবেশ করে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ চোখে, মুখে,নাকে হাত দেওয়া যাবেনা হাত হাত স্যানিটাইজ না করে বা সাবান দিয়ে ভালো করে না ধুয়ে। 

এখন কি কারনে চোখে, মুখে, নাকে আমরা হাত দেবনা।

যদি আপনি অপরিস্কার হাত চোখে, নাকে মুখে স্পর্শ করেন তাহলে আপনার হাতে যদি করোনার জীবাণু থাকে।ওটা আপনার নাক, মুখ এবং চোখের মিউকাস মেমব্রেন দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে আপনাকে আক্রান্ত করবে।

আক্রান্ত হলে আপনার ফুসফুস, লিভার, কিডনি আক্রান্ত করে আপনাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে। যদি আপনার হাত স্যানিটাইজ করা থাকে বা সাবান দিয়ে পরিস্কার করা থাকে তাহলে আপনি অন্তত ঐ সময়ে আক্রান্ত হবেন না।

স্যানিটাইজার এবং সাবানের দারা পরিস্কারের মধ্যে একটা পার্থক্য থাকে। স্যানিটাইজার ব্যাবহার করলে জীবাণুটা আপনার হাতে ইনএ্যাকটিভ অবস্থায় রয়ে যাবে।ওটা আর ছড়াতে পারবেনা। তায় বাইরে যখন থাকবেন স্যানিটাইজ করবেন হাত কিছুক্ষন পর,পর।বাসায় এসে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবেন অন্তত বিষ সেকেন্ড ধরে। সাবানে হাত ধুলে জীবাণু হাতের থে পরে যায় বা মারা যায়।

এটা হলো আপনার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার প্রক্রিয়া। 

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হলো মাস্ক পরবেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন।গন জমায়েত করবেননা বা গন জমায়েতে যাবেন না।তাহলে আপনি করোনা আক্রান্ত হবার ঝুকিতে থাকবেন। 

এখন মূল কথায় আসা যাক।নিম্নবিত্ত অর্থাৎ শ্রমিক, রিকশা চালক,ভ্যান চালক,ঠেলা চালক ইত্যাদি শেশার মানুষ। মধ্যবিত্ত যারা সরকারি বেসরকারি মধ্যম বা নিম্ন শ্রেণির কর্মচারি।ড্রাইভার বা করপোরেট অপারেটর। 

নিম্নবিত্তরা রিকশা ভ্যান চালাবে,শ্রমিক কাজ, করবে, ঠেলাওয়ালা ঠেলা চালাবে তারপর তারা চাউল কিনবে, বাজার করবে বাসায় যাবে রান্না হবে খাবে।মধ্যবিত্তরা মাস শেষে বেতন পাবে।চাল ডাল কিনবে মাসের পনের দিন ভালো চলবে তারপর যাবে বাঁকির দোকানে। এটা এই দুই শ্রেণির স্বাভাবিক জীবন যাপনের প্রক্রিয়া।

এখন করোনা বলছে তুমি বাইরে বের হবেনা। বাইরে বের হলে তোমার জীবন সংশয়ের ঝুঁকি আছে। 

পেট বলছে তুমি বাইরে যাও কাজ করো চাল আনো ডাল আনো রান্না করো তারপর পেট ভরাও।

কোথায় যাবেন আপনি? সরকারের লকডাউন দেওয়া লাগছেনা আপনি নিজেই লকডাউনে যেতে বাধ্য। অফিস খোলা নেই, রাস্তায় মানুষ নেই। অবকাঠামোগত কাজ বন্ধ লেবার শ্রমিক বসে আছে। কিন্তু পেটের চাহিদা আপনাকে বার,বার ধাক্কা দিচ্ছে কাজে যাও পেটে খুদা।

আচ্ছা বলুন তো ত্রানের উপর নির্ভর করে একটা পরিবার তার চাহিদার কতটা অংশ পুরন করতে পারে? অনেকে বলবে আমাদের ত্রান দেওয়া হোক আমরা ঘড়ের বাইরে যাবনা।এটা দাবি অধিকারের কথা। আপনি যেমন সংসারে হিমশিম খাচ্ছেন তেমন আপনাকে ত্রান দিতেও হিমশিম খেতে হয়।

এজন্য নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের বসবাস যেখানে বেশি। সরকার হোক আর জাতি হোক সে দেশে নানা সমস্যা করছে করোনা।

মানবিকতার রুলকে নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। 

করোনা থেকে বাঁচতে আপনাকে স্বাস্থ্যবিধী মানতেই হবে। আর জীবনকে বাঁচতে হলে আপনাকে সময়কে সঙ্গে নিয়ে কর্ম করতেই হবে। 

আমার মনে করোনা জীবন এবং সময় দুটোকেই নিয়ন্ত্রণহীন করে ফেলেছে। ভারসাম্যহীন করে ফেলেছে জীবন এবং জীবিকার মাঝে।

এখন পৃথিবীতে কোনকিছুই নিশ্চিত নয় যেখানে আপনি বলবেন, আপনি বিজয়ী। জীবনের নিশ্চয়তা নেই।কর্মের নিশ্চয়তা নেই। খাদ্যের নিশ্চয়তা নেই। আপনি এখন সমন্বয়হীন,অস্তিত্বহীন।

বিশেষ এই জায়গাটা চিহ্নিত করে নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পর্যায়ে।

সমাধান কি?

সমাধানের পথ অনেকটাই সিলগালা।তবে প্রত্যেকটি দেশেই এলিট শ্রেণীর বসবাস থাকে।বড়ো, বড়ো ব্যাবসায়ী থাকে।তারা যদি ইচ্ছা করেন তাহলে জীবন এবং সময়ের মধ্যে সামান্য সময় হলেও সমন্বয় আসতে পারে। 

নিতান্তই তাদের মানবিকতা ছাড়া কোন সরকার একার দ্বারা এটার কোন পরিবর্তন আনতে পারবেনা। তায় নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের বসবাস যে দেশে। করোনা সে দেশের জন্য হুমকির। 

সবার আন্তরিকতা এবং সহমর্মিতা দেশের আইনকে ভারসাম্যের মধ্যে রাখতে সহায়তা করুন। যতই

করোনা জীবন এবং সময়কে হাতছাড়া করেছে।একটু মানবিক হলে হেরে যেতে পারে করোনা। নিয়ন্ত্রিত হতে পারে জীবন। 

সবাই ভালো থাকবেন। মাস্ক পরবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চুলুন।

 

Comments

You must be logged in to post a comment.