একটি সত্যের উত্তর আজও পেলাম না।

পৃথিবীতে কিছু ঘটনা ঘটে যা বিশ্বাস করা বড়ো কঠিন হয়ে যায়। আবার এই কঠিন বিষয়গুলো কখনও, কখনও স্বাভাবিক ভাবেই ঘটে যায়। যা অবিশ্বাস্য বিশ্বাসে পরিনত হয়।

ঘটনাটি সত্য। সম্ভবত ২০০৮ সালের ঘটনা। পরিস্থিতির কারণে জায়গাটার নাম।জেলা,থানা এবং ঐ পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করলাম না।ছদ্ধ কিছু নাম ব্যাবহার করা হলো।

পরিবারে জন্ম নিলো এক কন্যা সন্তান। ভূমিষ্ট হবার তিনদিন আগে থেকেই মা অসুস্থ্য হয়ে পরেন। পিতা সরকারি চাকুরী করার সুবাদে ভালো হাসপাতালে ভর্তি করা হলো।সিজার করতে হবে ডাঃ জানালেন। কিন্তু মায়ের প্রেসার বেশি থাকায় ডাঃ একটু অপেক্ষা করতে করতে লাগলেন। 

এভাবে দুদিন অপেক্ষার পর সিজার করা হলো।কন্যা সন্তান পেয়ে পরিবার খুশি।মা একটু অসুস্থ্য থাকলেও এক সপ্তাহে রিকভারি হয়ে গেলো।হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলেন।

পরিবারে বেশ আনন্দের একটা রেশ বইতে লাগলো।বেশ ভালোই চলছে তাদের পরিবারের সুখ শান্তির যজ্ঞ।বেশ কিছুদিন পরে হঠাৎ বাচ্চাটা অসুস্থ্য পরে। ডাঃ এর কাছে নেওয়া হলো।ডাঃ বললেন নিউমোনিয়া হয়েছে। ঔষধ দিয়ে দিচ্ছি চিন্তার কোন কারন নেই। 

ডাঃ ঔষধ দিলেন তারা বাসায় ফিরে এলেন। এভাবে তিনদিন কেটে গেলো কিন্তু কোন পরিবর্তন এলোনা।রোগের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে লাগলো। আবার ডাঃ খুব উচ্চ পর্যায়ের ছিলেন। তবে ডাঃ সাহেব অনেকটা ঐ পরিবারের পারিবারিক ডাঃ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। 

যাইহোক তিনদিন পরে দিন গেল,রাত এলো।মধ্য রাতে বাচ্চার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেল।নিঃশ্বাস নিতে পারছেনা। কি আর করা, ঐ মধ্য রাতেই ডাঃ কে বাড়িতে আনতে ছুটলেন পরিবারের সদস্য রাতুল। মটর বাইক নিয়ে। 

ডাঃ সাহেবের বাসার গেটেই কলিংবেল লাগানো ছিলো।রাতুল চাপ দিলেন। একবার, দু'বার, তিনবার। ডাঃ বেলকনিতে এসে বললেন কে? নীচ থেকে রাতুল বললেন স্যার আমি রাতুল। বাচ্চার অবস্থা খুবই খারাপ আপানাকে নিতে এসেছি স্যার।ডাঃ না বললেন না।

তিনতলা থেকে নেমে এসে রাতুলে বাইকে চেপে বসলেন এবং বাসায় এলেন। ডাঃ বাচ্চাকে দেখে হতবাক। একি এতো ডাবল নিউমোনিয়া! তারাতাড়ি ঔষধ লিখে দিলেন। বললেন এই ইনজেকশন গুলো খুব তারাতাড়ি নিয়ে এসো।

রাতুল ছুটলেন ঔষধ আনতে। রাত বেশি হলেও ইমার্জেন্সি দোকানে লোক থাকে তায় পেয়েও গেলো ঔষধ। রাতুল বাসায় এসে ডাঃকে ঔষধ দিলেন তিনি নিজে হাতে বাচ্চার গায়ে ঔষধ পুশ করলেন। 

সকালে কি করতে হবে তাও সাজেস্ট করলেন। এবং রাতুলকে বললেন তুমি প্রেসক্রিপশনটা নিয়ে সকাল ১০ টায় আমার আবার দেখা করবে। রাতুল যথারীতি ডাঃকে বাসায় পৌঁছে দেবার জন্য গাড়ি ষ্ট্যাট করলো।ডাঃ বাইকে বসলেন এবং চলতে লাগলেন। 

ডাঃ সাহেবের বাসায় পৌঁছাতে আর এক মিনিটের রাস্তা বাঁকি আছে। এমন সময় ডাঃ বললেন রাতুল গাড়িটা থামাও।রাতুল ব্রেক করলেন। হঠাৎ ডাঃ গাড়ি থেকে নেমে তার ব্যাগটা ঘাড়ে নিয়ে বললেন। তোমরা বাসায় চলে যাও।আমি একটু পথ যেতে পারবো।রাতুল চাপাচাপি করলেন। স্যার গাড়িতে ওঠেন বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসি।

কিন্তু তিনি কোন কথা শুনলেন না।একটু বলা ভালো তখন ছিলো বর্ষাকাল।যেখানে রাতুল গাড়িটা দার করিয়েছে সেখানে পাকা রাস্তার গা ঘেঁষে বড়ো একটা জলাশয় আছে। অনেক বড়ো।আঞ্চলিক ভাষায় দোয়াও বলে কেউ, কেউ। 

ডাঃ ব্যাগ ঘাড়ে করে দশগজ এগিয়ে যেয়ে সোজা জলাশয়ে নেমে পরলেন। রাতুল গাড়িটা স্ট্যান্ড করে দৌড়ে গেলেন স্যার,স্যার আপনি কি করছেন? কোন কথা শুনলেন না। তিনি সাঁতরে অন্যপারে চলে যাচ্ছেন। রাতুল স্তম্ভিত হয়ে গেলো।কিছুটা ভয়ও পেলো।তারাতাড়ি গাড়ি ঘুড়িয়ে বাসায় চলে এলো।

বাসায় এসে কাউকে কিছু বললোনা।বাচ্চার অবস্থা তখন কিছুটা ভালোর দিকে। রাতুল ঘুমাবার চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারলোনা। শুধু ভাবনা কি হলো বিষয়টা। আবার ভয়ও পাচ্ছে ডাঃ যদি বাসায় না যায়।তাহলে তার হলো।এরকম না প্রশ্ন তার মাথায় ভর করেছে। আর অপেক্ষায় কখন ভোর হবে। 

ঘটনা এ পর্যন্ত ঘটলে হয়তোবা চিন্তার পাহাড় এখানেই রাখা যেত।কিন্তু সকাল ১০টায় যেটা ঘটলো তখন রাতুলের মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়লো।

প্রসঙ্গত ডাঃ সাহেব একটা জেলা সরকারি হাসপাতালের আর,এম,ও ছিলেন। 

রাতুল যথারীতি ১০টায় ডাঃ সাহেবের রুমে এলো এবং প্রবেশের অনুমতি চাইলো। ডাঃ বললেন এসো রাতুল। রাতুল মনে মনে আনন্দিত হলেন তিনি বাসায় ফিরেছিলেন। 

ডাঃ বললেন বলো রাতুল কেন এসেছো?কোন সমস্যা? রাতুল আৎকে উঠলেন। স্যার বলে এলেন আমাকে আসতে অথচ তিনিই বলছেন কেন এসেছো? বাচ্চার কোন সমস্যা হয়েছে? আর একবার দেখায়ে নিয়ে যেতে পারতে?রাতুলের মুখে কোন ভাষা নেই। 

এবার রাতুল বললেন স্যার রাতে আপনাকে নিয়ে গেলাম আমাদের বাসায়। বাচ্চা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। আপনি নিজে ইনজেকশন পুশ করার পর থেকে এখন একটু ভালো। 

ডাঃ বললেন কি বলো,রাতে কখন গেলাম আমি। রাতে তো আমি আমার জেলায় গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সকালে অফিসে এসেছি। এখনও বাসায় যায়নি। রাতুল চমকে উঠলেন। 

রাতুল প্রেসক্রিপশন বের করে বললেন এই তো আপনি প্রেসক্রিপশন লিখেছেন। সই করেছেন। ডাঃ বললেন দেখি।রাতুল প্রেসক্রিপশন দেখালেন। বললেন হ্যা এটাতো আমার প্যাড সিল,সই।কিন্তু 

রাতুল বিস্তারিত খুলে বললেন। ডাঃও চিন্তিত রাতুলও চিন্তিত। ডাঃ বললেন ঔষধ তো একদম সঠিক। চলো তোমার বাসায় যাবো।ডাঃ সাহেব রাতুলদের বাসায় এলেন বাচ্চকে দেখলেন। পরীক্ষা করলেন। বাচ্চা সম্পূর্ণ সুস্থ্য।

রাতুলের সাথে আরেকজন স্বাক্ষী ছিলো। যে এই ঘটনার একজন বড়ো স্বাক্ষী।রাতুল এবং সে এবং ডাঃ আজও হিসাব মেলাতে পারিনা। 

প্রশ্ন:- কেন হলো? কি হলো?

Comments

You must be logged in to post a comment.

Related Articles