ইউটিউব চ্যানেল খুলে দ্রত ইনকাম করুন লক্ষ লক্ষ টাকা

ইউটিউব এমন একটি শব্দ যার সাথে আমার ইয়াং জেনারেশনের ভাই ও বোনেরা মোটামুটি সবাই পরিচিত আর যারা পরিচিত নয় শুধু মাত্র তাদের জন্য আমার  আজকের এই লেখাটি । আশা করি আপনারা সবাই আমার এই লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন । তো মূল কথায় আসি । ইউটিউব বর্তমানে একটা বড় ধরনের প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

। পৃথিবীতে গুগলের পর সবচেয়ে বড় ধরণের ভিডিও  প্লাটফর্ম  হচ্ছে এই ইউটিউব । ২০০৪ সালে  তিন বন্ধুর প্রচেষ্টায়  এই ইউটিউব এর যাত্রা শুরু । তিন বন্ধুর মহান প্রচেষ্টার ফল হলো এই ইউটিউব । তিন বন্ধুর একজনের নাম ছিল জাবেদ করিম । আর জাবেদ করিম হলো একজন বাংলাদেশী  বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা ।

তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে জন্ম গ্রহন করেন । তাঁর বাবা সপরিবারে ১৯৯২ সালে আমেরিকায় চলে যান । তিনি সেখানকার একটি স্ট্যান্ডফোর্ড  বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রকৌশলীতে পড়াশোনা করেন । জাবেদ করিম হলেন ইউটিউবের প্রথম উদ্যোক্তা । আর তাঁর অন্য দুইজন বন্ধুর নাম হলো জাদ হার্ডলি এবং স্টিফ চ্যান । এরা দুজন হলেন তাঁর বন্ধু এবং সহযোগী ।

এরাও হলেন ইউটিউবের প্রতিষ্ঠাতা । এই তিন বন্ধু প্রথমে একটি ব্যাংকিং পেপালে জব করতেন হঠাৎ একদিন তাঁদের জব চলে যায় । তার পর থেকে তাঁরা একটা  সিদ্ধান্ত নেয় যে তাঁরা এমন কিছু করবে যাতে অন্যের অধীনে চাকুরী করতে না হয় । আর এই দিক থেকে তাঁরা একি মত পোষণ করে । তারপর পর থেকেই শুরু এর প্রচেষ্টা । 

প্রথমে তাঁরা  ওয়েব ডিজাইন নিয়ে কাজ শুরু করেন । তাঁরা অনেক রিসার্চ করে দেখে যে নতুন কি আবিষ্কার করা যায় । তাঁরা দেখল যে , ভিডিও শেয়ারিং এর কোনো সাইট নেই । 

আর তখনি তাঁরা এই সাইটটি খুলে আর তার নাম দেয়  ইউটিউব । আর  তখনি জাবেদ করিম একটা ১৮ সেকেন্ডের ভিডিও আপলোড করেন ।  তাঁরা কখনো ভাবিনি যে এই কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওটিই তাঁদের জীবনের ক্যারিয়ার গড়ে দিবে । আর এই ভিডিও থেকে তাঁরা বিলিয়ন বিলিয়ন  কোটি টাকা ইনকাম করেন । এভাবেই তাঁরা তাঁদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন ।

এই গুলো  মূলত ইউটিউবের সাফল্যের কথা । এখন বলবো ইউটিউব দিয়ে মূলত কি কি কাজ করা যায় । ইউটিউব দিয়ে কি কি কাজ করা যায় সেটা আসলে লেখে শেষ করা যাবে না । তবে যত টুকু সম্ভব তুলে ধরার চেষ্টা করবো আপনাদের কাছে যা থেকে আপনারা উপকৃত হতে পারেন । ইউটিউব এমন একটা সাইট যেখানে আপনি যা জানতে চান  তাই জানতে পারবেন ।

আপনি যদি ইউটিউব এ কিছু লিখে সার্চ দিন তাহলে সেটা আপনি লিখতে দেরি হবে কিন্তু আসতে দেরি হবে না  । এ টু জেড এই খান থেকে আপনি সার্চ করে দেখতে ও জানতে পারবেন । এছাড়া আপনি বিভিন্ন ধরনের কাজ শিখতে পারবেন। উদাহরণ স্বরূপ -  হস্তশিল্পের কাজ, নকশিকাঁথার কাজ , জামা শেলায়ের কাজ ,  বিভিন্ন ধরনের লেজের কাজ , পেইন্টিং এর কাজ , শাড়ি শেলায়ের কাজ ,কুশি কাটার কাজ , হাতের ডিজাইন বিভিন্ন ধরনের সুতার কাজ , পাঞ্জাবীর কলারের কাজ , শাড়িতে ছাপ বসানোর কাজ , পাপুসের কাজ , ঘরের মাদুরের কাজ ।

এছাড়াও আপনি কাগজ দিয়ে ঘরের জন্য বিভিন্ন ধরনের কলমের জার ‌, ফুলের ওয়ালমেট , কাগজের বিভিন্ন ধরনের ফুল , বিভিন্ন ধরনের পেন্সিল বক্স ইত্যাদি । এছাড়াও আপনি পুঁতির মালা,ব্যাগ এবং বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরি করতে পারবেন ।  এই গুলো শিখলে আপনি খুবই সহজ ভাবে ইনকাম করতে পারবেন ।

খুবই ইম্পর্ট্যান্ট যেটা সেটা হলো আপনি বিভিন্ন ধরনের ফ্রীল্যান্সীং এর কাজ শিখে ইনকাম করতে পারবেন খুবই দ্রত । যেমনঃ - ফেইসবুক মার্কেটিং , ক্লাসিফাইড এডস পোস্টিং , লিডস জেনারেশন , ডাটা এন্ট্রি , আর্টিকেল রাইটিং , বুকমার্কিং , ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট , ডিজিটাল মার্কেটিং , ওয়েব ডিজাইন ,গ্ৰ্যাফিক ডিজাইন  , এসসিও ইত্যাদি ।

এগুলো থেকে সহজ কিছু কাজ শিখে কিন্তু আপনি চাইলে ইনকাম করতে পারবেন সহজ ভাবেই । এছাড়াও আপনি সিবি বানানো , জন্ম নিবন্ধন সনদ , ভোটার আইডি  কার্ড, বিভিন্ন ধরনের জব এপ্লিকেশন এর কাজ শিখতে পারেন এবং কিভাবে ডাউনলোড করতে হয় সেটাও শিখতে পারেন । আর যেটা করে আপনি সবচেয়ে বেশি এবং মান্থলি ইনকাম করতে পারবেন সেটা হলো ইউটিউব চ্যানেল খুলে ।

প্রতিদিন ‌পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ ইউটিউব চ্যানেল দেখে । ইউটিউব চ্যানেল খুলে পৃথিবীর বহু মানুষ কোটি কোটি টাকা ইনকাম করছে । পৃথিবীর কথা বাদই দিলাম, শুধু বাংলাদেশের কথা বলছি ‌। বাংলাদেশে এমনও ইউটিউবার আছে যারা মাসে কমপক্ষে ১০- ১২ লাখ টাকা ইনকাম করছে । শুধু তাই নয় আমাদের দেশের মেয়ে ইউটিউবারও কোনো অংশে কম নয় ।

কিছু কিছু  নারী ইউটিউবারও মাসে কমপক্ষে ৫-৬ লাখ টাকা ইনকাম করছে । আপনি যদি ইচ্ছা করেন যে আমিও করবো তাহলে সম্ভব । কোনো কিছু করার আগে আপনাকে অবশ্যই বেশি পরিমাণে  অদম্য ইচ্ছুক শক্তি থাকতে হবে ।

  প্রচুর পরিমাণে ধৈর্য্য এবং সময় দিতে হবে । যদি আপনি সত্যি সত্যি ইউটিউব চ্যানেল খুলে আয় করতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কোন ক্যাটাগরির ইউটিউব চ্যানেল খুলতে চান । যদি আপনি ইউটিউব চ্যানেল খুলতেই চান তাহলে আপনাকে ইউটিউব এর কিছু  রোলস মেইনটেইন করতে হবে । হুট করে খোলা যাবে না ।

বিশ্ব জুড়ে অনেক ধরনের ইউটিউব চ্যানেল আছে । আমি কিছু উল্লেখ করে দিচ্ছি । যেমনঃ কিছু ইউটিউব চ্যানেল আছে শুধু নিজস্ব ডান্স ভিডিও গুলো আপলোড করে, কেউবা শুধু গ্যামিং ভিডিও আপলোড করে, ইসলামিক চ্যালেন  হতে পারে , স্পোর্টস চ্যানেল, সর্ট ফিল্ম চ্যালেন, ইং লিস ইস্পোকেন চ্যালেন ইত্যাদি ।

আরো অনেক ধরনের ইউটিউব চ্যানেল আছে যে গুলো আপনারা একটু কষ্ট করে সার্চ করলেই খুঁজে পাবেন । আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কোন টপিক নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে চান ‌। আপনার যে বিষয় সবচেয়ে বেশী ভালো লাগে বা আপনার অভিজ্ঞতা আছে আপনি সে বিষয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারেন । ইউটিউব চ্যানেল খোলার‌ জন্য  আপনাকে কিছু কাজ ধাপে ধাপে করতে হবে। আপনাকে প্রথমে ইউটিউব চ্যানেলের  নাম এবং ক্যাটাগরি সাবক্যাটাগরি এবং ডেসক্রিপশন খুবই সতর্কতার সাথে লিখতে হবে ।

এবং সার্চ ট্যাগ ইউটিউব গুলো টপিকের সাথে মিল রেখে লিখতে হবে যাতে করে আপনার  চ্যানেলকে সার্চ করলে সহজে খুঁজে পাওয়া যায় । এরপর আপনি মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস আছে যেগুলোতে আপনি ইউটিউব এর লোগো, কাবার এবং ব্যানার বানিয়ে নিতে পারেন এবং খুব  সুন্দর ভাবে সেখানে সেট  করে নিবেন । ইউটিউব চ্যানেলে লোগো ব্যানার সেট করলে আপনার চ্যানেল টি অতি তাড়াতাড়ি সাবস্ক্রাইব বাড়বে এবং মনিটাইজেশন পেতে খুবই সহজ হবে ।

এই কাজগুলো সম্পূর্ণ করলে আপনার চ্যানেল টি একটি পারফেক্ট চ্যানেল হবে এবং সার্চ করলে আপনার চ্যানেলটি প্রথমে আসার সম্ভাবনা বেশি থাকবে । এরপর আপনি আপনার ভিডিওগুলো খুব ভালোভাবে এডিটিং করে আপলোড করবেন । আরেকটি কথা আপনি কিন্তু শুরু থেকেই টাকা ইনকাম করতে পারবেন না যতদিন না পর্যন্ত আপনার ১০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ হাজার ঘন্টা ওয়াচ টাইম যতদিন পর্যন্ত না হবে আপনি কোন টাকা আর্ন করতে পারবেন না ।

১০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ঘন্টা ওয়াচ টাইম হওয়ার পর আপনাকে গুগোল অ্যাডসেন্সে আগে আবেদন করতে হবে । তখন আপনার আবেদনটি অ্যাপ্রুভ হলে আপনি তখন থেকে মান্থলি ইনকাম করতে পারবেন । আপনি যদি একবার সফল হতে পারেন তাহলে আপনাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না । যতদিন যাবে আপনার এখান থেকে টাকা বারতেই  থাকবে ।

আর আপনি অবশ্যই একদিন সফলতার মুখ দেখবেন এবং লক্ষ লক্ষ টাকা আপনিও ইনকাম করতে পারবেন । আর আপনারা চিন্তা করবেন না চিন্তা করলেই চিন্তা বাড়বেই । চিন্তা না করে বা কালকের কথা না ভেবে আজ থেকে কাজে লেগে যান । আর সফলতার দ্বার একদিন আপনার ঘরের দরজায় এসে  কড়া নাড়বে ইনশাআল্লাহ ।

আশা করি আর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই । আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। যাই হোক আমার লেখায় যদি কোন ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকে আপনারা আমাকে সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন । আপনাদের যদি বুঝতো কোথাও অসুবিধা হয় তাহলে আপনারা আমাকে কমেন্ট বক্সে লিখে জানাতে পারেন ‌ । আমি যথাসম্ভব চেষ্টা করব আপনাদেরকে বোঝানোর জন্য । তো আপনারা সবাই ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন প্রতিবারের মত । আল্লাহ হাফেজ .....

 

Comments

You must be logged in to post a comment.