মিষ্টি কুমড়ার পুষ্টিগুণ

আমাদের রোজকার দিনে কিন্তু অনেক সস্তার সবজি থাকে যেটার আমরা নাম সুনলেই নাক ছিটকায় কিন্তু যদি ভালো করে রান্না করা যায় সেটা খেতে কিন্তু মন্ধ লাগেনা। শুধু খেতে মন্ধ লাগেনা তা নয় তার সঙ্গে সেগুলোর পুষ্টি গুন  অসাধারণ, সেই রকোমেরী একটি সস্তা সবজি হল মিষ্টি কুমড়া।

১.স্বাদেভরা মিষ্টি কুমড়ারঃ

মিষ্টি কুমড়া খুবই পুষ্টিকর ও  সুস্বাদু সবজিগুলোর মধ্যে একটি। মিষ্টি কুমড়ার মতো মিষ্টি ও সুস্বাদু সবজি খুবই কম রয়েছে।হালকা মিষ্টিস্বাদের এই সবজিটি সহজলভ্য এবং এটি পাওয়া যায় সারা বছর ধরে। 

২.মিষ্টি কুমড়ার পুষ্টিগুনঃ

শরীরকে সুস্থ রাখতে অনেক সময় অপছন্দের খাবারও তীব্র অনিচ্ছায় খেতে হয়।সাস্থ্যকর খাবার তো আর সুস্বাদু হয় না। কুমড়ার কথায় দরুন না, সবার যে এই কুমড়া ভালো লাগবে তাতো নয়।তবে নিজের শু-শাস্তের কথা চিন্তা করে   প্রতিদিন না হোক সপ্তাহে দু দিন হলেও মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার চেষ্টা করুন। সবজি হিসাবে মিষ্টি কুমড়া খুবই পুষ্টিদায়ক।

৩.ভিটামিন বি কমপ্লেক্সঃ

মিষ্টি কুমড়ায় পাওয়া যায় ভিটামিন বি কমপ্লেক্স,কপার,পটাশিয়াম ও ক্যালশিয়াম আমাদের দেহের সুস্থতার জন্য এই সব গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

৪.হজমযোগ্য ও চর্বিহীনঃ

মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ আছে। মিষ্টি কুমড়া হজমযোগ্য একটি সবজি।  এটি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেলেও ওজন বাড়ার  আশঙ্কা নেই।মিষ্টি কুমড়া খুবই কম ক্যালরিযুক্ত সবজি,এতে কোলেস্টেরল বা সম্পৃক্ত   চর্বি নেই বললেই চলে। 

৫.রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ

কুমড়ার দানা ফাইটো এস্ট্রোজেনে পরিপূর্ণ। তাই হায়পারটেনশনের হাত থেকে নিস্তার পেতে হলে নিয়মিত কুমড়ার দানা খাওয়ার অভ্যাস করে ফেলুন।ডায়াস্টোলিক ব্লাড প্রেশারও কমায়। যে কারণে যারা হাইপ্রেশারে ভুগছেন, ওষুধের পাশাপাশি কুমড়ার দানা খেতে থাকুন উপকৃত হবেন অবশ্যই।

৬.করোনারি নামক মারাক্তক অসুখঃ

হার্ট  ভালো রাখতে মিষ্টি কুমড়ার অনেক অবদান রয়েছে পাকা মিষ্টি কুমড়ায় থাকা ফাইবার হার্টকে সুস্থ রাখতে অনেক সাহায্য করে। করোনারি নামক মারাত্বক অসুখ এড়াতে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় মিষ্টি কুমড়া রাখুন। 

৭. কুমড়ার স্যুপঃ

মিষ্টি কুমড়া আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখুন।সেটা চিকেন বা ভেজিটেবল স্টকের সংঙ্গে মিশিয়ে গাঢ় হওয়া পর্যন্ত ফুটিয়ে নিন।তাতে পরিমাণ মতো লবণ ও গোলমরিচ দিন। গার্নিস করার জন্য মিল্ক  ক্রিম মিশিয়ে নিন।এবার খেয়ে দেখুন মজা ও শু-শাধু কুমড়ার স্যুপ।

৮.হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুতঃ

মিষ্টি কুমড়া চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারি। চোখ ভালো রাখতে চাইলে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেতেই হবে। কারণ মিষ্টি কুমড়ায় রয়েছে ভিটামিন এ যা চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে।শুধু চোখই নয়,মিষ্টি কুমড়া হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে। 

৯.ক্যান্সার প্রতিরোধঃ

বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়া তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে।মিষ্টি কুমড়া চোখ এবং ত্বক ভালো রাখার সংঙ্গে সংঙ্গে ক্যান্সার প্রতিরোধেও কাজ করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান তাদের প্রস্টেট এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক  কমে যায়। 

১০.ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থঃ

যুক্তরাষ্টের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ এর তথ্যনুসারে এক কাপ পরিমাণ রান্না করা মিষ্টি কুমড়ায় প্রতিদিনের চাহিদার চেয়ে প্রায় ২০০ ভাগ ভিটামিন এ থাকে যা দৃষ্টিসক্তি বাড়াতে দারুন ভাবে কাজ করে।

সুতরাং মিষ্টি কুমড়ার মিষ্টান্নতা ও গুনাগুন সম্পর্কে  আমরা অনেক কিছু  জেনেছি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় মিষ্টি কুমড়ার প্রয়োজন রয়েছে। 

Comments

You must be logged in to post a comment.