ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় এর মাধ্যম গুলো বিস্তারিত

ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় এর মাধ্যম গুলো বিস্তারিত দেয়া হল:


   ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয়

ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয়: মানুষ এখন অনলাইনে অর্থ আয়ের জন্য নানা কৌশল প্রয়োগ করে আসছে। অনলাইনে আয়ের নানা পথও তৈরি হয়েছে এখন বর্তমান বিশ্বে। তবে অনলাইনে কাজ করে আয় করতে গেলে কোন প্ল্যাটফর্ম ধরে এগোচ্ছেন, আপনাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অনলাইনে ফ্রিলান্সিং কাজ করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ওয়েবসাইট ও রিসোর্স আছে, যা কাজে লাগিয়ে ফ্রিলান্সিং করে অনলাইনে আয় করতে পারবেন।

আগে আপনাকে যে কোন একটা বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। এরপর অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলতে একটু বেশি সময় দিতে হবে। একটু বেশি ঘাটাঘাটি করতে হবে। যারা অনেক দিন থেকে কাজ করে, তাদের প্রোফাইল দেখতে হবে। তাদের প্রোফাইল দেখে তাদের প্রোফাইলের মত নিজের প্রোফাইল ভালোভাবে সাজাতে হবে।

এবং ইংরেজীতে একটু বেশি দক্ষ হতে হবে। এমন না যে ফ্লুয়েন্টলি আপনাকে কথা বলতে হবে বা যোগ করতে হবে বা লিখতে হবে। অন্তত একটি জব পোস্ট পড়ে কি কি করতে বলছে, কি কি করতে হবে এবং ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলার মত ইংরেজী জ্ঞান দক্ষতা থাকতে হবে।

১. ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয়

অনলাইনে অর্থ উপার্জনের জন্য ফ্রিল্যান্সিং সর্বদা একটি জনপ্রিয় সহজ উপায় এবং ইন্টারনেটের বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। বিভিন্ন দক্ষতা আছে এমন লোকদের জন্য ফ্রিল্যান্স টাস্ক অফার করে আসছে। এমন বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট রয়েছে। আপনাকে যা করতে হবে তা হ’ল প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করা, তালিকাগুলির মাধ্যমে ব্রাউজ করা,এবং আপনার পক্ষে উপযুক্ত কাজের জন্য অনলাইনে আবেদন করা।

কিছু ওয়েবসাইট এমনকি আপনার স্কিলসেটের বিষয় সহ একটি ব্যক্তিগত তালিকা তৈরি করার প্রয়োজন হতে পারে, যাতে আগ্রহী ক্লায়েন্টরা সরাসরি আপনার সাথে ভালোভাবে যোগাযোগ করতে পারে।

আউটফিভার ডটকম, আপওয়ার্ক ডটকম, ফ্রিল্যান্সার ডটকম এবং ওয়ার্কহাইনার ডট কম এমন কিছু ওয়েবসাইট যা ফ্রিল্যান্স জব সরবরাহ করে থাকে। আপনি এই ওয়েবসাইটগুলির মাধ্যমে ৫ ডলার থেকে এবং ১০০ ডলার এর মধ্যে যে কোনও জায়গায় আপনি উপার্জন করতে পারবেন।

তবে মনে রাখবেন যে, প্রদত্ত কাজটি সফলভাবে শেষ করার পরে আপনি কেবলমাত্র অর্থ পরিশোধ করবে। এবং এটি আপনার ক্লায়েন্টের দ্বারা অনুমোদিত হয়ে গেছে। এটি এমনকি আপনার ক্লায়েন্টদের প্রয়োজনীয়তা পূরণ না করা হলে, কাজটি কয়েকবার সংশোধন করার অর্থ হতে পারে।

বেশিরভাগ ক্লায়েন্টরা এর মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ প্রদান করতে পছন্দ করায়, কিছু সাইট আপনাকে একটি পেপাল অ্যাকাউন্ট সেট আপ করতে বলবে। অনলাইনে টাকা আয় করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।

২। নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টাকা আয়

আপনার নিজের ওয়েবসাইট একসাথে রাখতে সহায়তা করার জন্য অনলাইনে পর্যাপ্ত উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেন, টেমপ্লেট, লেআউট এবং সামগ্রিক নকশা নির্বাচন করা অন্তর্ভুক্ত।

একবার প্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু দিয়ে দর্শকদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলে, গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে, যখন আপনার ওয়েবসাইটে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা বেশি হয়,এবং দর্শকদের দ্বারা আপনার সাইটে দেখতে দেখতে ক্লিক করা হয়,

দর্শকরা আপনার সাইটে যতবেশী ক্লিক করবে আপনার অ্যাডসেন্সে তত বেশি ডলার যোগ হবে আর আপনাকে অর্থোপার্জনে সহায়তা করে দিবে। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে যত বেশি ট্র্যাফিক পাবেন, তখন আপনার আয়ের সম্ভাবনা তত বেশি হবে।

৩. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা আয়

আপনার ওয়েবসাইটটি একবার চালু হয়ে গেলে আপনি সংস্থাগুলি আপনার সাইটে ওয়েব লিঙ্কগুলি সন্নিবেশ করার অনুমতি দিয়ে অনুমোদিত বিপণনের জন্য বেছে নিতে পারেন আপনি। এটি প্রতীকী অংশীদারিত্বের মতো। আপনার সাইটের দর্শকরা যখন এই জাতীয় লিঙ্কগুলিতে ক্লিক করে,পণ্য কিনে থাকেন, আপনি সেগুলি থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। অনলাইনে টাকা আয় করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।

৪. সার্বে করে টাকা আয়

অনলাইনে সমীক্ষা করানো, অনলাইন অনুসন্ধান চালানো এবং পণ্যাদির উপর পর্যালোচনা লেখার জন্য অর্থ প্রদান করে এমন বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট রয়েছে অনলাইনে। ক্রেডিট পেতে, কোনও ব্যক্তির ব্যাংকিংয়ের বিশদ সহ তাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা দরকার আছে।

এজন্য আপনার এই রুটটি অত্যন্ত যত্ন সহকারে ব্যবহার করা উচিত হবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আপনাকে প্রকল্পে কাজ করার আগে তাদের সাথে নিবন্ধকরণ করতে বলতে পারে আপনাকে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এই জাতীয় প্রকল্পগুলির মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি হ’ল অর্থের প্রস্তাব দেওয়া ওয়েবসাইটগুলি থেকে দূরে থাকাই সত্য বলে মনে হয়।

ওয়েবসাইটটির খ্যাতি মূল্যায়নের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন কারণ এর মধ্যে অনেকগুলি কেলেঙ্কারী হতে পারে সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। বেশিরভাগ সাইটগুলি চেক পেমেন্টের অনুলিপিগুলি প্রদর্শন করে থাকে। এমন ব্যবসায়ের প্রচার করে যা কেবল মধ্যস্থদের দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। অনলাইনে টাকা আয় করার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম।

৫. ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টের মাধ্যমে টাকা আয়

কারও বাড়ি থেকে সমস্ত কর্পোরেট স্টাফ করা ভার্চুয়াল সহকারী (ভিএ) যা করে। ভিএগুলি মূলত তাদের ক্লায়েন্টদের সাথে দূরবর্তীভাবে কাজ করে এবং তাদের ব্যবসায়ের এমন দিকগুলি পরিচালনা করে থাকে। যে তারা নিজেরাই পরিচালনা করতে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আপনি যখন ভার্চুয়াল সহকারী হিসাবে কাজ করেন, আপনি কোনও কর্মচারী হিসাবে কাজ করতে বা আপনার নিজের ব্যবসা সেট আপ করতে পারবেন।

ভিএগুলি হ’ল দক্ষ, গৃহ-ভিত্তিক পেশাদার যা সংস্থা, ব্যবসায় এবং উদ্যোক্তাদের প্রশাসনিক সহায়তা দেয়। কাজের কিছু বড় ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে ফোন কল করা, ইমেল চিঠিপত্র, ইন্টারনেট গবেষণা, ডেটা এন্ট্রি, সময়সূচী অ্যাপয়েন্টমেন্ট, সম্পাদনা, লেখা, বই রক্ষণ, বিপণন, ব্লগ পরিচালনা, প্রুফরিডিং, প্রকল্প পরিচালনা, গ্রাফিক ডিজাইন, প্রযুক্তি সহায়তা, গ্রাহক পরিষেবা, ইভেন্ট পরিকল্পনা, এবং সামাজিক মিডিয়া পরিচালনা ইত্যাদি।

আরো ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয় ৫টি কাজ


ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয়

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার এই সময়ে বিশ্বের ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রায় সবাই ক্রমেই ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। সবাই চাচ্ছে তার একটি ভার্চুয়াল ঠিকানা হোক।

কারণ, একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান একদিকে যেভাবে তার গ্রাহকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে, অপরদিকে বিভিন্ন শহরে বা বিভিন্ন দেশে অবস্থিত নিজস্ব শাখার সাথে আন্তঃযোগাযোগও সহজে এবং কম খরচে করতে পারে।

ওয়েব দুনিয়ায় বর্তমানে মোট ওয়েবসাইটের পরিমান প্রায় ৮০০ মিলিয়ন। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার ওয়েবসাইট। এই বিপুল সংখ্যক ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ডিজাইনের পাশাপাশি প্রয়োজন ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ। নতুন ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট কিংবা পুরাতন ওয়েবসাইটকে নতুনভাবে ডেভেলপ করার জন্য প্রয়োজন,একজন ভালমানের ওয়েব ডেভেলপার। এ কারণেই অনলাইন মার্কেটপ্লেসসহ লোকাল মার্কেটে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের চাহিদা বেড়েই চলেছে এখন সারা বিশ্বে।

এক কথায় নিঃসন্দেহে বলা যায়, ওডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্সসহ জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য কাজ হলো ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ। ওডেস্কে প্রায় সবসময়ই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ক্যাটাগরিতে ১০ হাজারের অধিক জব থাকে অনলাইন।

ইল্যান্সের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজই ওয়েব ডেভেলপমেন্টের। প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে শত শত কাজ। ওডেস্কে প্রতি ঘন্টায় ১৫০ ডলারের বেশি রেটে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করছেন এমন অনেকেই রয়েছেন। তবে এই আয়ের পরিমান নির্ভর করে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে নিজেকে কতটা স্কিল করতে পারছেন তার উপর ও আপনার কাজের উপর নির্ভর করবে।

একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে অবশ্যই এইচটিএমএল, সিএসএস, পিএইচপি, জাভাস্কিপ্ট, জেকোয়ারি, মাইএসকিউএলসহ সংশ্লিষ্ঠ আরও বিষয় ভালভাবে আপনাদেরকে জানতে হবে। এই বিষয়গুলো ভালোভাবে শিখে মিলিয়ন ডলারের ওয়েব ডেভেলপমেন্টের বাজারে যেকেউ প্রবেশ করতে পারবেন।

ওয়েব ও গ্রাফিক্স ডিজাইন
আঁকা ঝোঁকাতে ঝোক বেশি। ক্রিয়েটিভ কিছু করতে মন চায়,সময় পেলেই কম্পিউটারের পেইন্ট টুলস, ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর নিয়ে গাছ, পাখি, ফুল, ফল, বাড়ির দৃশ্য বা কারো নাম বা ছবি নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।পার্ট-টাইম বা ফুল টাইম কাজ খুঁজছেন। অথবা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে অপেক্ষাকৃত বেশি আয় করতে চান।

তাহলে আর দেরি নয় আজও কাজ শুরু করতে পারেন তাহলে ভেবে চিন্তে নেমে পড়তে পারেন গ্রাফিক্স ডিজাইনে। অন্যান্য সব চাকরির থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন পেশাটি সবচেয়ে নিরাপদ ও ঝামেলা বিহীন একটি কাজ। নিরাপদ ও ঝামেলাবিহীন বলার কারণ হলো অন্যান্য সব পেশার বিপরীতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কোনো কাজের অভাব হয় না। এটা একটি সন্মানজনক পেশাও বটে।

একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার বেশ কিছু কালার, টাইপফেস, ইমেজ এবং অ্যানিমেশন ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়ে থাকে। এটার আউটপুট ডিজিটাল বা প্রিন্ট উভয়ই হতে পারে। নিজেকে ভালোভাবে তৈরি করতে পারলে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজের অভাব হয় না আজকাল।

ইন্টার্যাাক্টিভ মিডিয়া, প্রমোশনাল ডিসপ্লে, জার্নাল, কর্পোরেট রিপোর্টস, মার্কেটিং ব্রোশিউর, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, লোগো ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইনসহ বিভিন্ন সেক্টরে কাজের চাহিদা রয়েছে। লোকাল মার্কেট বা অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেটাই বলি না কেনো প্রতিনিয়ত গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

ডিজাইনারদের বেতন নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডিজাইনার স্যালারিজ এর মতে, একজন ডিজাইনার প্রতি বছরে গ্রাফিক্স ডিজাইন বা এ সম্পর্কিত চাকরি বা কাজ করে ১ লাখ ডলার সেই হিসেবে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আয় করতে পারে গ্রাফিক ডিজাইনরা। বাংলাদেশে গ্রাফিক্স ডিজাইনে ডিপ্লোমাধারীর বেতন মাসে সাধারণত ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন।

তবে ব্যাচেলর ফাইন আর্টসে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের বেতন মাসিক ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হতে হয়ে থাকে। এছাড়া অনলাইন মার্কেটপ্লেসে একটি লোগো ডিজাইন করলে ৫ থেকে শুরু করে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে দক্ষতার ক্ষেত্রে ও বেশি ক্রিয়েটিভ কাজ হলে এটি ৫ হাজার ডলার পর্যন্তও হতে পারে।

এছাড়া একটি ওয়েবসাইটের ফাস্ট পেজ ডিজাইন করার ক্ষেত্রে ৭০ ডলার থেকে শুরু করে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। ৯৯ডিজাইনস ডটকম, ফ্রিল্যান্সার, ওডেস্কসহ অনেক অনলাইন মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে এই কাজগুলো পাওয়া যায়। তাই ওয়েব ও গ্রাফিক্স ডিজাইন হতে পারে একজন ফ্রিল্যান্সারের সবচেয়ে উপযোগি পেশা ও ভালো মানের কাজ।

কনটেন্ট রাইটিং
অনলাইনে আয় করার অন্যতম সহজ ও সম্ভাবনাময় উপায় হল লেখালেখি, যেটিকে আর্টিকেল রাইটিং বা কনটেন্ট রাইটিং অথবা কনটেন্ট ডেভেলপিং বলা হয়। যারা ইংরেজিতে ভালো তাঁরাই লেখালেখিকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন। কনটেন্ট রাইটাররা বিভিন্ন কাজের জন্য কনটেন্ট লিখে থাকেন।

ওয়েব কনটেন্ট ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য রিসোর্স বই, ব্রশিউর, লিফলেট বা অন্যান্য প্রচারণার কাজে কনটেন্ট ডেভেলপ করা হয়ে থাকে।

একজন কনটেন্ট ডেভেলপারের অনেক কাজের ক্ষেত্র রয়েছে। ক্ষেত্রগুলো হলো- কপিরাইটিং ব্লগ লেখা, ওয়েব কনটেন্ট, প্রেস রিলিজ রাইটিং, ট্রান্সলেশন, ট্রান্সক্রিপশন, সামারাইজেশন, রিজিউম রাইটিং, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি। লেখার বিষয়টা নির্ভর করে লেখকের দক্ষতা, ও ক্যাটাগরি, রুচি, সহযোগিতা সর্বোপরি যে সাইট বা বিষয়ের জন্য লেখা হচ্ছে সেটার চাহিদার ওপর নির্ভর করে।

তবে বিষয়বস্তু যা-ই হোক না কেন একজন ওয়েব কনটেন্ট রাইটারকে কোনো নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করে ডেটাবেজ তৈরি করতে হয়। উন্নত বিশ্বে একজন কনটেন্ট রাইটারকে একজন সাংবাদিক আবার গবেষকও অভিহিত করা হয়। বিষয়বস্তু অনুযায়ী ঠিক করে নিতে হয় লাইন অফ অ্যাকশন থেকে। লেখা অবশ্যই প্রাঞ্জল ও গুরুত্বপূর্ণ হতে হবে ও ভাল ক্যাটাগরি মানের হতে হবে।

রাইটার হিসেবে যেসব বিষয় মনে রাখতে হবে, যারা ওয়েবসাইটে আপনার লেখা পড়বেন, তিনি মিনিট প্রতি বা ঘণ্টা প্রতি নির্দিষ্ট পয়সা খরচ করে পড়বেন। সুতরাং তিনি চাইবেন সবচেয়ে কম সময়ে প্রয়োজনীয় জিনিস পড়তে ও ভালো মানের কিছু যাতে আপনার সাইডে পেয়ে থাকেন এরকম কিছু আপনাকে কন্টেন লিখতে হবে।

তাই তথ্য নির্ভর, সংক্ষিপ্ত বিষয়ভিত্তিক লেখাই আপনাকে লিখতে হবে। কনটেন্ট লেখার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই অন্যের লেখা কপি করা যাবে না এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এতে লেখক হিসেবে আপনার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বাড়বে তেমনি উপার্জনের পথও বেশি প্রশস্থ হবে।

কনটেন্ট রাইটার হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে ভালো মানের লেখা হতে হবে। প্রয়োজন শুদ্ধ বানান। আমেরিকান স্পেলিং শুদ্ধভাবে জানতে হবে। গ্রামার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে আপনার ইংরেজী দক্ষতায়।

এক্ষেত্রে ব্রিটিশ ও আমেরিকান গ্রামার সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা ভালো। আর ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য প্রয়োজনীয় যে বিষয়গুলো রয়েছে যেমন ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ সমন্বয়, কাভার লেটার লেখা, আপডেটেড থাকা এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে আপনাদের অবশ্যই।

বাংলাদেশে এমন অনেক ফ্রিল্যান্স লেখক আছেন যারা ঘন্টায় ২০-২৫ থেকে ৪০ ডলার আয় করে থাকেন। এছাড়া দেশি-বিদেশি ইন্টারনেট মার্কেটিং অথবা কনটেন্ট মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানেও আপনি ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বেতনে চাকরি করতে পারেন। তাই কনটেন্ট রাইটার হিসেবেও ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার করার অনেক সুযোগ।

ব্লগিং অ্যান্ড অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
মার্কেটপ্লেসের কাজ না হলেও, অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম উপায় হচ্ছে ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা অনলাইনে। বাংলাদেশ থেকেই এখন প্রচুর তরুণ-তরুণী ব্লগিং-অ্যাফিলিয়েটের মাধ্যমে নিজেদের স্মার্ট ক্যারিয়ার নিশ্চিত করেছেন অনেক তরুণ-তরুণীরা।

এই সেক্টর থেকে প্রতিমাসে ৩ থেকে ১৫ হাজার ডলার আয় করছেন এমন সফল ব্লগার ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের সংখ্যাও এখন অনেক বেশি। ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রায় একই বিষয়। দুটিই একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা সম্ভব।

ব্লগিংয়ের মাধ্যমে কেবল টাকা নয়, পাওয়া যায় বিপুল সম্মানও আন্তর্জাতিক বিশ্বে ব্লগারদের সাংবাদিক হিসাবেও এখন গণ্য করা হয়। স্মার্ট ক্যারিয়ার হিসাবে তাই ব্লগিং এখন ওয়েব উদ্যোক্তাদের মধ্যে এখন বিশ্বের সবচেয়ে সেরা মাধ্যম।

ব্লগিংয়ের মাধ্যমে অনেক আয় করা যায়, এরমধ্যে গুগল অ্যাডসেন্স আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়। সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টের এ বিজ্ঞাপন প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিমাসে ২০ হাজার ডলারের উপরে আয় করছেন এমন ব্লগারের সংখ্যাও বাংলাদেশে রয়েছে।

গুগল অ্যাডসেন্স এবং সরাসরি বিজ্ঞাপন স্পেস বিক্রিসহ আরও নানান উপায়ে আয় করতে পারেন একজন ব্লগার সাইটে। নিজের ব্লগের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পণ্যকে সুপারিশ করেও (রেফার) আয় করার সুযোগ রয়েছে একজন ব্লগারের, যাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়।

ইন্টারনেট থেকে ভালো আয়ের ক্ষেত্রে এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংও একটি উপযোগি মাধ্যম। এই মাধ্যমে আপনি অন্য যেকোনো আয়ের উপায় যেমন অ্যাডসেন্স থেকেও বেশি আয় করতে পারবেন অনলাইন।

তবে বিশাল এ ক্ষেত্রটিতে এগিয়ে যেতে আপনাকে কৌশুলী হতেই হবে, এবং অভিজ্ঞ হতে হবে, জানতে হবে পরীক্ষিত সব উপায়। ওয়েবসাইট তৈরি করা থেকে শুরু করে অ্যামাজান অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম, প্রোডাক্ট রিসার্স চাহিদা সম্পন্ন লাভবান পণ্য নির্বাচণ করা, কিওয়ার্ড রিসার্স সার্চ ইঞ্জিন থেকে টার্গেটেড ভোক্তা প্রোডাক্ট বেস কিওয়ার্ড নির্বাচন,

প্রোডাক্ট রিভিউ লিখা কাস্টমারকে পণ্য প্রদর্শণ ও লেখনির মাধ্যমে পণ্য কেনায় উৎসাহিত করা, অনলাইন মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে সাইটে টার্গেট ট্রাফিক আনাসহ বিভিন্ন বিষয় জানতে হয়। এক্ষেত্রে ইংরেজিতে কনটেন্ট লিখতে পারা বা লেখালিখিতে আগ্রহীরা এগিয়ে আসতে পারেন। সন্মানজনক এই পেশায় নাম লেখাতে পারেন আপনিও।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
ইন্টারনেট বাণিজ্যের এই যুগে ওয়েবসাইট ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানকে তো কল্পনাই করা যায় না। আবার ওয়েবসাইট থাকলেই কিন্তু এখন চলেনা। এটি সর্বত্র পৌছে দিতে ব্যাপক মার্কেটিংয়েরও প্রয়োজন হয়।

একটি ওয়েবসাইটকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায় ও বেশ জনপ্রিয় মাধ্যম। একটি ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথমদিকে নিয়ে আসার যে কৌশল সেগুলোকেই মূলত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলা হয়ে থাকে।

দিন দিন বিশ্বব্যাপি যত ওয়েবসাইট বাড়ছে, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজের ক্ষেত্রও অনেক বেশি বাড়ছে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতেও তাই দিন দিন বাড়ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজ। আর এ হিসাবে ফ্রিল্যান্সার হতে চাওয়া তরুণ-তরুণীদের অন্যতম পছন্দ হতে পারে এ মাধ্যম।

ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোর তথ্যানুসারে, একজন দক্ষ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার মাসে ৬০ হাজার থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারে। প্রয়োজন কেবল সঠিক নির্দেশনা, ভালো অভিজ্ঞতা ও প্রচেষ্টা, ধৈর্য এবং সময়।

বর্তমানে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও এগিয়ে রয়েছে, এই পেশায় বেশ ভালো করে আসছে। জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কিত ব্লগ এসইওমজ-এর ডাটা অনুযায়ী প্রতি ১০০ জন ফ্রিল্যান্স সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজারদের মধ্যে ২৩ জনই হচ্ছে নারী।

ওডেস্ক এর বিলিয়ন ডলারের এ মার্কেটপ্লেসের ১২ শতাংশ এখন আমাদের দখলে, আর এর মধ্যেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এর কাজ সবচেয়ে বেশি করা হচ্ছে। শুধু ওডেস্ক নয় অন্যান্য মার্কেটপ্লেসেও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এর কাজে বাংলাদেশিদের পদাচারণা বাড়ছে।

২০১২ সালে ফ্রিল্যান্সার ডট কম আয়োজিত ‘কনটেন্ট রাইটিং ও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)- ২০১২’ প্রতিযোগিতায় পাকিস্থান, অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বের বাঘা বাঘা দেশের ফ্রিল্যান্সারদের হারিয়ে বাংলাদেশের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ইন্টারনেট মার্কেটিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডেভসটিম লিমিটেড বাংলাদেশ প্রথম হয়। আর এ জন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) বিশ্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে খুব পরিচিত একটা নাম।

আপনি যদি ইংরেজিটা মোটামুটি জানেন তবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শেখা শুরু করে দিতে পারেন এখন থেকে। এসইও-র এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো খুব কঠিন কিন্তুু বেশি কিছু নয়। দু’তিন মাসের ট্রেনিং নিয়েই এ ধরণের কাজ করা যায় অনলাইনে। কোথায় পাবেন প্রশিক্ষণ।

কিন্তু আপনি বলতে পারেন কোথায় পাব এসব কাজ। ইন্টারনেট থেকেই শিখতে পারেন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের খুঁটিনাটি। প্রয়োজনে নিতে পারেন প্রশিক্ষণ। ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন চাহিদা সম্পন্ন কাজে।

Comments

You must be logged in to post a comment.

Related Articles