মোবাইল আমাদের কেন দরকার

এক সময় আমাদের মোবাইল ছিলো না তখন আমরা চিঠিতে কথা বলতাম। এখন আমাদের মোবাইল আছে মোবাইলে কথা বলি আগে চিঠি যেতে আনেক সময় লাগতো, এখন আমরা মেসেজ করার সাথে সাথে চলে যায় মোবাইল দিয়ে এখন কাজ করা জায় আমরা বতমানে মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে কাজ করতে পারি।

আগে এই সুজুক ছিলো না মোবাইলে শুধু ভালো করছে তাই নয়। মোবাইলের খারাপ দিক আছে ,যেমন বেশি মোবাইল চাপলে চখের সমস্যা হয়। তাই আমরা সবাই নিয়ম মেনে মোবাইল চালাবো। 

মোবাইলের ভালো দিক এবং মোবাইলের উপকারিতা

১) সহজ যোগাযোগ মাধ্যম

বর্তমানে আমরা সবাই জানি মোবাইল সাধারণত যোগাযোগ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। যার মাধ্যমে কোন নাম্বারে কল করে তার সাথে ফোনে নেটওয়ার্ক এবং ব্যালেন্স থাকা অধিক কথাবাত্রা বলতে পারি।

এর সাথে সাথে মোবাইলের আরেকটি বড় সুবিধা হল এটিকে আমরা নিজের সাথে বা পকেটেভরে যেখানে খুশি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারি। যেখানে খুশি সেখানে নিয়ে যেতে পারবেন এবং সব সময় সব জায়গায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারে।

২) সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করা যায়

আজকের যুগে সোশ্যাল মিডিয়া এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে সব ধরনের ইনফরমেশন পাওয়া যায় শুধুমাত্র আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে। কোনো খবরের শিরোনাম থেকে, সিনেমা, গান ভিডিও স্ট্যাটাস সবকিছু আমাদের মনোরঞ্জন করে আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন।

এবং তার সাথে সাথে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট বানিয়ে নিজের পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে বিনামূল্যে মেসেজ, ভিডিও কল, গান বা ছবি পাঠানো, এই সমস্ত কিছু করা যায় মোবাইল ফোন দিয়ে। এবং এইসব খুব কম সময়ের মধ্যে দু তিনটা সুইচ টিপে দিয়ে খুব সহজভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।

৩) ব্যবসায় সাফল্য নিয়ে আসে

যদি আপনি কোন নতুন ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি মোবাইলের মাধ্যমে আপনার ব্যবসার অ্যাডভার্টাইজমেন্ট থেকে শুরু করে, আপনার ক্লায়েন্টদের সাথে বাড়িতে বসে অনলাইনে মিটিং পর্যন্ত করতে পারবেন, আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে বা স্মার্টফোন দিয়ে।

এবং তার সাথে সাথে ইমেইল, ইন্টারনেট, ভিডিও কলিং এর সাহায্যে মোবাইল; এক দেশ থেকে অন্য দেশে অন্যান্য ক্লায়েন্টদের সাথে ডিল করা সম্ভব করে তোলে স্মার্টফোন দিয়ে।

৪) অন্যদের স্ট্যাটাস দেখানোর জন্য

আজকের যুগে স্ট্যাটাস জিনিসটি সবাই দেখাতে পছন্দ করে। তাই কোন ব্যক্তির মোবাইল দরকার থাকুক বা না থাকুক, সে কোনো ভালো কোম্পানির মোবাইল কিনে লোক কে দেখিয়ে তার স্ট্যাটাসটি মেনটেন করে।

৫) যেকোন সাহায্যের জন্য

যদি আপনি কোনো নতুন জায়গায় পৌঁছাতে চান এবং রাস্তা না জানেন তাহলে মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে সেই জায়গায় খুব সহজে পৌছাতে পারবেন খুব সহজে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়ে।

কি বিষয়টা আপনার কাছে অবাক লাগছে, হ্যাঁ অবাক লাগারই কথা,এবং কোন দরকারী জিনিস ভুলে গেলে আত্মীয় পরিজনদের তার ছবি তুলে মোবাইলে পাঠাতে বলতে পারেন অতি সহজেই।

যদি রাস্তাঘাটে কোনো দুর্ঘটনা হয় তাহলে বাড়িতে ফোন করে তাদের জানাতে পারেন আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে। আপনি আজকের দিনে একটি মোবাইল ব্যবহার করে যে কোন সাহায্য মোবাইলের মাধ্যমে নিতে পারেন।

৬) নতুন কোন ঠিকানা খুঁজে বের করার জন্য

যদি আপনি কোনো হাসপাতাল বা স্কুলে ভর্তি হতে চান বা কাউকে ভর্তি করতে চান, তাহলে আপনি গুগল সার্চের মাধ্যমে যে কোন ঠিকানা খুঁজে বের করতে পারেন।

সাথে সাথে সেই জায়গার বিভিন্ন ইনফরমেশন আপনাকে ওই জায়গায় পৌঁছতে সাহায্য করবে। এভাবে আপনি কোনো নতুন জায়গায় ভ্রমণ করার জন্য সেখানকার টার্মস & কন্ডিশন গুলি আগে থেকে জেনে নিয়ে নিজেকে সেই মতো তৈরি করতে পারবেন।

৭) মনোরঞ্জন

আপনি মোবাইলের মাধ্যমে গান শোনা থেকে শুরু করে সিনেমা, সিরিয়াল, খবর এই সব কিছুর মাধ্যমে সময় কাটাতে পারবেন। এবং এর সাথে সাথে বিভিন্ন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এর মধ্য দিয়ে আপনার পছন্দের যে কোন ভিডিও দেখতে পারেন। এর জন্য আপনার বাড়িতে আলাদা করে টিভি বা রেডিও কেনার প্রয়োজন পড়বে না ।

৮) কেনাকাটা করবার জন্য

আজকাল মানুষ অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়ার কারণে বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা। তবে যদি আপনার কাছে একটি মোবাইল থাকে তাহলে আপনি খুব সহজে অনলাইন থেকে কেনাকাটা করতে পারবেন।

আপনি বাড়ি থেকেই অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারবেন আপনার হাতে থাকা স্মার্ট ফোনের সাহায্যে এবং নিজের বাড়ির ঠিকানায় সেগুলি অর্ডার করতে পারবেন। যার ফলে আপনার অনেক সময় সঞ্চয় হবে।

মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক এবং মোবাইল ফোনের অপকারিতা

তাহলে আমরা জেনে গেছি মোবাইল ফোন ব্যবহার করার উপকারিতা গুলি কি কি। এবার আমরা মোবাইল ফোনের খারাপ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করব। তাই নিচে বিস্তারিত ভালোভাবে পড়ে নিন?

১) বিরক্তিকর জিনিস

আপনি হয়তো দেখে থাকবেন যখন আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খেতে বসি বা কোন বিশেষ কাজে ব্যস্ত থাকি তখন আমাদের কাছে ফোন কল এলে, আমরা খুবই বিরক্ত বোধ করি।

তাই আমার মতে এটি হলো এক ধরনের বিরক্তিকর বস্তু মোবাইল ফোন। যেটা আমাদের মনোযোগ দিয়ে, কোন কাজ করতে দেয় না মাঝেমাঝেই বিরক্তিকর মনে হয় । তাই যতটা সম্ভব হয় এটাকে আমাদের কাছ থেকে দূরে রাখাই ভালো।

২) দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা

অনেকে গাড়ি চালানোর সময় ফোন এলে তারা এক হাতে গাড়ি চালায় এবং অন্য হাতে ফোন ধরে কথা বলে এই দিক দিয়ে একটি খারাপ দিক। এর ফলে অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায়।

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বেজে উঠলো অনেক বিরক্তি কর মনে হয়। এইজন্য যদি আপনি গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল সঙ্গে রাখেন তাহলে সেটিকে সুইচ অফ বা ফ্লাইট মোড করে রাখুন।

৩) স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়

মোবাইল ফোন বেশি ব্যবহার করার ফলে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে অনেক ডাক্তার রা গবেষণা করে বলে থাকেন। কিছু রিপোর্ট এর কথামতো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষমতা কমে যায়, মস্তিষ্কে টিউমার, শিশুদের ব্লাড ক্যান্সার, ঘুম থেকে বঞ্চনা, মস্তিষ্কের কোষগুলির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এই সমস্ত রোগ গুলি বেশি মোবাইল ব্যবহার করার কারণে হয়ে থাকে।

৪) সময় নষ্ট

অনেক মোবাইল ব্যবহারকারী, দিনের বেশিরভাগ সময়ে মোবাইল ব্যবহার করে কাটিয়ে দেয় এই দিক দিয়ে অনেক বিরক্তিকর মনে হয়। সময় সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো গুরুত্ব থাকেনা।

এই জন্য অনেক ছাত্র-ছাত্রী গেম এবং অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে দিনের ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা শুধুমাত্র মোবাইল ব্যবহার করে সময় নষ্ট করে।

অনেকে বুঝতেই পারেনা এই সময়ে যে কাজটি তাদের কাছে করা জরুরি, তারা এখন এটা না করলে তাদের ভবিষ্যৎ অনেক খারাপ হতে পারে।

৫) সিকিউরিটি এবং প্রাইভেসি চুরি হয়

ইন্টারনেটে কখনো কখনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার, নিজস্ব ঠিকানা, নাম এগুলি দেওয়ার দরকার পড়ে। কিন্তু ইন্টারনেটে এমন কিছু খারাপ সংস্থা আছে যারা এই সমস্ত ডাটা গুলিকে তাদের নিজস্ব সার্ভারে স্টোর করে নিয়ে, এই সমস্ত ডাটা গুলির সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজ করে থাকে।

ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় আপনি বুঝতেই পারবেন না কখন আপনার প্রাইভেসি লিক হয়ে গেছে। তাই অসতর্ক থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে থাকেন।

৬) ভুল তথ্য নেওয়া

ইন্টারনেটে অনেক ভালো সাইট থাকার সাথে সাথে অনেক খারাপ সাইট ও আছে। যারা অনেক ইনফরমেশন ভুল দিয়ে থাকে। অনেক মোবাইল ব্যবহারকারী অনেক ধরনের ওষুধের নাম, ঠিকানা এগুলি ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কখনো কখনো ভুল ওষুধ এবং ঠিকানার কারণে তারা অনেক বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়।

বন্ধুরা এই পোষ্ট যদি আপনাদের কাছে কোন উপকারে আসে, বা পোস্টটি ভাল লেগেছে তাহলে আপনার বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে শেয়ার করুন?

 

Comments

You must be logged in to post a comment.

Related Articles